সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎জামালগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি, কোনো বৈষম্য থাকবে না : এমপি কামরুজ্জামান কামরুল মেয়েকে হারিয়েছেন পানিতে, এখন অন্য শিশুদের বাঁচাতে সাঁতার শেখান বাবা লোকজ পরিবেশনায় চিত্রায়িত হল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী সুনামগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই গর্বিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কয়েক হাজার মানুষের উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বম্ভরপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন হাতকড়াসহ পলায়ন, ফেসবুক লাইভ; শেষ রক্ষা হলো না আসিরের জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী হাওরে ধানের বাজার মন্দা, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দিরাই বিএনপিতে ঐক্য নেই, বাড়ছে বিভক্তি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে : র‌্যাবের মহাপরিচালক খেলাপি ঋণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হাওর ও কৃষক-মৎস্যজীবীদের রক্ষায় ১০ দফা দাবি

হাওরে চড়ক উৎসবে মানুষের ঢল

  • আপলোড সময় : ১৫-০৪-২০২৫ ১১:৫২:৩০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৪-২০২৫ ১১:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন
হাওরে চড়ক উৎসবে মানুষের ঢল
শামস শামীম ::
হাওরে পাকা বোরো ধান দখিনা হাওয়ায় দোলছে গন্ধে মাতোয়ারা চারপাশক্ষেতের আইল ধরে হাটছেন কৃষক
ধান কাটা ও মাড়াইও চলছে সামান্য। নয়মৌজার সারিসারি করচগাছগুলোও গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে শীতল বায়ু দিয়ে যাচ্ছিল। হাজার হাজার নারী পুরুষ গোল হয়ে চড়ক উৎসবকে ঘিরে জড়ো হয়েছিলেন। সনাতন ধর্মীরা শিব দেবতা ও পাবর্তীর নামে মন্ত্র জপছিলেন। পাগনার হাওরের চারপাশে যখন এই আবহ লক্ষণীয় তখন বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন শেষ বিকেলে কৃষি ও ফসলকে ঘিরে বাঙালির আদি লোকাচার চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী চড়ক উৎসব উদযাপিত হলো জামালগঞ্জের পাগনার হাওরের দুটি গ্রামে।

ছয়হারা ও খুজারগাঁও গ্রামে গতকালের সনাতন ধর্মাবলম্বিদের উৎসবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বিরাও যুক্ত হয়ে আনন্দ উদযাপন করেছেন।

উৎসবকে কেন্দ্র করে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণকারী প্রায় তিন শতাধিক সন্ন্যাসী ১৫ এপ্রিল ক্ষৌরকার দিয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে মাছ-মাংস ভোজন করে গৃহে ফিরেছেন।

জামালগঞ্জ উপজেলার হাওরঘেরা গ্রাম ছয়হারা। দোলতা ও কানাইখালী ঘেরা এই গ্রামটির চারদিকেই হাওর। গ্রামের কান্দায় প্রায় ৫শ বছর ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বিরা চৈত্রসংক্রান্তির দিনে এই উৎসব পালন করেন। বাঙালির কৃষিভিত্তিক এই লোকাচারটি এখনো উৎসবের রূপে দেখা গেছে।

এ উপলক্ষে গ্রামে হাওরের কান্দায় বসেছিল মেলাও। যেখানে খেলনা, প্রসাধনীসহ গৃহস্থালি পণ্যের পসরাও দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে খুজারগাঁও গ্রামেও। এছাড়াও জেলার বিশ্বম্ভরপুরে চড়ক উৎসব পালিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, চৈত্র সংক্রান্তির এই দিনে শত শত বছর ধরে গ্রামে এই চড়ক পূজার আয়োজন করা হয়। দিনে দিনে এটি উৎসবে রূপ নেয়।

সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বিদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষজনও এতে অংশ নেন। ছয়হারা গ্রামবাসীর উদ্যোগে সন্ন্যাসীরা পূজায় নানা আচারাদি পালন করেছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বি নারী-পুরুষ সন্ন্যাসীদের ঘিরে আচারাদি পালনের পাশাপাশি স্বামী সন্তানের মঙ্গল কামনায় মানসিকও (দেবতার উদ্দেশ্যে মানিত বস্তু বা উপকরণ) দেন। তারা ভোগ ও লুট বিতরণ করেন। সন্ন্যাসীরা পুরো চৈত্রমাস গ্রাম থেকে বেরিয়ে এলাকার প্রতিটি গ্রামে উৎসব উপলক্ষে মাধুকরি করে চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন ফিরে এসে পরের দিন চৈত্র সংক্রান্তি পূজার আয়োজন করেন। শিবের পাট বা আসন নিয়ে গ্রামগুলোতে গিয়ে, কালি নৃত্য, কৌতুক, গান ও ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন তারা। ওই সময় প্রতিটি গ্রামের লোকজন ভিক্ষা হিসেবে সন্ন্যাসীদের হাতে চাল, ডাল, নগদ টাকা, সোনাদানাও তুলে দেন। এগুলো সংগ্রহ করে চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিন গ্রামে ফিরেন সন্ন্যাসীর দল। পুরো মাধুকরিকালে সন্ন্যাসীদের দলনেতা ও সহ দলনেতা অন্যান্য সন্ন্যাসীদের পরিচালনা করেন। এবার ছয়হারা, খুজারগাঁও ও বিশ্বম্ভরপুরে চড়ক পূজায় প্রায় তিন শতাধিক সন্ন্যাসী সন্ন্যাসব্রত নিয়েছিলেন। চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক পূজার দিনে পিঠে বড়শি গেথে দুই সন্ন্যাসীকে শিবদন্ডীতে ঘুরোনা হয় বিকেলে। এর পাশাপাশি ভূমি শয্যা (ভূমিতে গর্ত করে মাটি চাপা), জ্বলন্ত আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া, দোরলপূজা ও জিহ্বায় ধারালো লোহার শলাকা গেথে হেটে যাওয়াসহ নানা লোকাচার পালন করেছেন।
এগুলো তান্ত্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে পালন করা হয় বলে জানান সন্ন্যাসীরা। কৃষি ও ফসলের মঙ্গলের জন্য বাঙালি সংস্কৃতির এই পুরনো লোকাচার পালিত হয় বলে জানান স্থানীয়রাও।
এবারের তিনটি উৎসবে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সনাতন ধর্মী নারীরা মাঠে শিবদন্ডীর নিচে শিবপাট নিয়ে বসে থাকা সন্ন্যাসীদের ভক্তির মাধ্যমে মনোবাসনা পূরণের জন্য টাকা-পয়সাসহ নানা উপকরণ দান করেন।
এদিকে সন্ন্যাসীদের বিদায়ের মাধ্যমে মঙ্গলবার এই উৎসবটি শেষ হয়। এই দিন সন্ন্যাসীরা মাধুকরির মাধ্যমে যে ভিক্ষা পেয়েছিলেন তা দিয়ে গ্রামবাসীকে ভোজন করিয়ে নিজেরাও মাছ-মাংস খেয়ে সন্ন্যাসব্রত ত্যাগ করে আবার নিজেদের গৃহে প্রবেশ করেন। স্থানীয় ক্ষৌরকাররা তাদের দাড়িগোফ ছেটে পরিচ্ছন্ন করেন।

খুজারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত পুরকায়স্থ বলেন, আমাদের গ্রামে এবারও চড়ক পূজায় ভূমিশয্যা ও দোরলপূজাও হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ছয়হারা চড়কপুজার প্রধান সন্ন্যাসী বিভাষ তালুকদার বলেন, আমাদের গ্রামে শত শত বছর ধরে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গৌরী ও শিব দেবতাকে আমরা সাধন-ভজন করে কৃষি ও ফসলের জন্য এই লোকাচার পালন করি। আমরা ১৮ চৈত্র সন্ন্যাসে বের হয়ে চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন গ্রামে ফিরেছি। চড়ক পূজা শেষে মঙ্গলবার ক্ষৌরকার দিয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে মাছ-মাংসে ভোজন করে গৃহে প্রবেশ করেছি। আমরাসহ এবার জেলার বিভিন্ন স্থানে হওয়া চড়ক পূজায় তিন শতাধিক সন্ন্যাসী লোকাচার শেষে ঘরে ফিরেছেন।

ছয়হারা গ্রামের বাসিন্দা লেখক ও আইনজীবী কল্লোল তালুকদার চপল বলেন, চড়ক উৎসব একটি আদিম লোকাচার। কৃষিভিত্তিক সমাজে এখনো এই লোকাচারটি কিছু কিছু গ্রামে টিকে আছে। ফসলের মঙ্গল কামনায় বংশ পরম্পরায় এই লোকাচারটি আদি সংস্কৃতিরও জানান দেয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‎জামালগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার

‎জামালগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার